বাংলাদেশের দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শেষ হলো একটি হতাশাজনক পরাজয়ের মাধ্যমে। তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৪ রানে অলআউট হয়ে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজ আগেই নিশ্চিত হওয়ায় এই হার সিরিজ জয়ের উল্লাসে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি, তবে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হারানোটা নিঃসন্দেহে হতাশার।
ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় স্বাগতিকরা। দুই-পেসি উইকেটেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে সফরকারীরা। সাহিবজাদা ফারহানের ঝলমলে হাফসেঞ্চুরি (৫২) এবং হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজের কার্যকর ইনিংসে তারা তুলেছিল চ্যালেঞ্জিং ১৭৮ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস শুরু হয় চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফিরে যান তানজিদ হাসান। এরপর একে একে আউট হয়ে যান লিটন, মিরাজ, জাকের ও মেহেদী। মাত্র ৪.৪ ওভারে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২৫ রান, উইকেট পড়ে যায় ৫টি। পাওয়ারপ্লেতে পড়ে যায় ৬ উইকেট, যার ফলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে টাইগাররা।
এক প্রান্ত আগলে রেখে কিছুটা লড়াই চালান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিনি ৩৪ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকলেও, তার ইনিংস কেবল ব্যবধান কমানোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৬.৪ ওভারে মাত্র ১০৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে ছিল দারুণ বৈচিত্র্য। সালমান মির্জা ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নওয়াজ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। পুরো ইনিংসজুড়েই পাকিস্তানের বোলাররা ছিলেন নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিক, যা বাংলাদেশ ব্যাটারদের দিশেহারা করে দেয়।
তবে এই হারেও টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। সিরিজ জয় ও তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। আগামী সিরিজগুলোর জন্য এই অভিজ্ঞতা বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা।



