শীতের ঠান্ডা ও রুক্ষ আবহাওয়ায় আমরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটাই, যা আমাদের অজান্তেই ‘ইনডোর অ্যালার্জেন’ বা ঘরের ভেতরের অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা, ডাস্ট মাইট, পোষা প্রাণীর লোম, ছত্রাক এবং তেলাপোকার মলের মতো উপাদানগুলোই মূলত শীতকালীন অ্যালার্জির প্রধান কারণ। এর ফলে ক্রমাগত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ-গলা চুলকানো, শুকনো কাশি এবং ত্বকে র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশির সাথে একে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখা প্রয়োজন, সর্দি সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয় এবং অল্প দিনে সেরে যায়, কিন্তু অ্যালার্জি নির্দিষ্ট উপাদানের সংস্পর্শে থাকলে মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে।
শীতকালীন অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিচ্ছন্নতা ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত গরম পানিতে বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ধোয়া, ঘরে ‘HEPA’ ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ঘরকে ছত্রাকমুক্ত রাখা এবং পোষা প্রাণীর লোম থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। যদি উপসর্গ প্রকট হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ বা নাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপি বা অ্যালার্জি শটও একটি ভালো সমাধান হতে পারে। সচেতনতা ও সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই পারে শীতের এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে।



