বিশ্ববাসী সামনে দেখতে যাচ্ছে এক অভাবনীয় মহাজাগতিক দৃশ্য—শতাব্দীর দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি ২০২৭ সালের ২ আগস্ট ঘটবে এবং এটি প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড স্থায়ী হবে। এই সময়কে বিজ্ঞানীরা বলছেন “পূর্ণতা” বা Totality, যেখানে চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে দেবে।
এই সূর্যগ্রহণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশে দৃশ্যমান হবে। মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো অন্তত ৯টি দেশের মানুষ এই মহাজাগতিক ঘটনাটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৮৯ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি এই গ্রহণ দেখতে পারবেন, যাদের জন্য দিনপর্যায়ে কয়েক মিনিটের অন্ধকার নেমে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ৭.৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনউইচের সিনিয়র জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্রেগ ব্রাউন জানান, এমন দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সূর্য ও চাঁদের দৃশ্যমান আকারের পার্থক্য এবং পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণেই এমন দীর্ঘতা ঘটে।
সূর্যগ্রহণ কীভাবে ঘটে?
সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে দাঁড়ায়, ফলে সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। এটি শুধু অমাবস্যা তিথিতে সম্ভব, কারণ তখন চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকে। তবে চাঁদের কক্ষপথ কিছুটা হেলে থাকার কারণে প্রতিবার অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না।
এই বিরল এবং দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ বিজ্ঞানী ও সাধারণ দর্শক—দু’পক্ষের কাছেই দারুণ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট তাই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য হবে এক স্মরণীয় দিন।



