বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালকে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ‘পরিসংখ্যানের পাগলাটে বছর’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই বছরটি যেমন অবিশ্বাস্য রেকর্ডে ঠাসা ছিল, তেমনি ক্রিকেটপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে একের পর এক বিস্ময়কর মুহূর্ত। টিম ইন্ডিয়ার জন্য বছরটি ছিল অম্লমধুর; একদিকে টানা ২০টি টস হারার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ব্যাটিং বিপর্যয়ের তিক্ততা। তবে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজের ফাইনালে মাত্র ৬ রানে জয় এবং ৩০০-র বেশি রানের লক্ষ্য সফলভাবে রক্ষা করা ছিল ভারতের ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক গৌরবগাথা।
মহিলাদের ক্রিকেটে ২০২৫ সাল ছিল এক স্বর্ণালি অধ্যায়। টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ হারার পরও প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার অসাধ্য সাধন করেছে ভারত নারী দল। মাত্র ২১ বছর বয়সে শেফালি ভার্মার ফাইনালের সেরা হওয়া এবং পুরো বছরে ওয়ানডেতে ২৫টি তিনশোর্ধ্ব স্কোর হওয়া প্রমাণ করে যে, নারী ক্রিকেটের মান ও শক্তি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও ছিল চরম উত্তেজনা; ইন্দোনেশিয়া ও ভুটানের বোলারদের অবিশ্বাস্য স্পেল থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ফিন অ্যালেনের ছক্কার বৃষ্টি—সবই ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) ১৮ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে সব অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক।
টেস্ট ক্রিকেটে অ্যাশেজের নাটকীয়তা, মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব কিংবা স্পেনের মতো উদীয়মান দলের ২০ ম্যাচের জয়ের ধারা—প্রতিটি পরিসংখ্যানই ২০২৫-কে করেছে অনন্য। তরুণ প্রতিভা হিসেবে ১৪ বছর বয়সী বৈভব সুর্যবংশীর সেঞ্চুরি যেমন আশা জাগানিয়া ছিল, তেমনি বিরাট কোহলির ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা বা স্মৃতি মান্ধানার ব্যাটিং রূপকথা দর্শকদের দিয়েছে নির্মল আনন্দ। সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের ক্রিকেট কেবল জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, বরং এটি ছিল সংখ্যা আর রেকর্ডের এক মহাকাব্য।



