দারিদ্র্য, অভাব আর কঠোর বাস্তবতার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন ময়মনসিংহের অদম্য তরুণ কাওসার আহমেদ। জীবনের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও পড়াশোনা ছেড়ে না দেওয়ার যে অদম্য ইচ্ছা, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি। নিজের পড়ার খরচ চালাতে এবং পরিবারের মুখে দুবেলা ভাত তুলে দিতে কাওসারকে করতে হয়েছে হাড়ভাঙা পরিশ্রম। চা বিক্রির কাজ থেকে শুরু করে কাঠমিস্ত্রির দোকানে কাজ, জমিতে দিনমজুরি, কৃষিকাজ এবং টিউশনি—কোনো কাজকেই ছোট মনে না করে তিনি সততার সাথে করে গেছেন। একপর্যায়ে নিজের শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখার তাগিদে তিনি হাতে তুলে নেন রিকশার পৈঠাও।
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর কাওসার নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ঢাকায় চলে আসেন। রাজধানী শহরে এসেও তার সংগ্রামের পথ সহজ ছিল না। দিনের বেলায় কঠোর শারীরিক পরিশ্রমে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ের খরচ জোগাতেন। অমানুষিক পরিশ্রম এবং নিজের অদম্য লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি ভর্তি পরীক্ষার জন্য রাত জেগে প্রস্তুতি নেন। অবশেষে তার কঠোর চেষ্টার ফল মেলে; নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (NSTU) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (EEE) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান তিনি।
তবে কাওসারের এই অর্জনের আনন্দের দিনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি হারিয়ে ফেলেন তার প্রিয় মাকে। অন্যদিকে তার বাবাও শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। চরম আর্থিক সংকট, স্বজন হারানোর বেদনা এবং পুরো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চলা কাওসার কিন্তু থেমে যাননি। মায়ের রেখে যাওয়া স্বপ্ন এবং পরিবারের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প বুকে নিয়ে তিনি আজও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম বহু শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।



