অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর আশায় রাতে খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন। কারও বিশ্বাস, এতে শরীর হালকা থাকে; আবার কেউ মনে করেন, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে সত্যিই কি রাতে খাবার বাদ দিলে ওজন কমে? নাকি এতে উল্টো ঝুঁকি বাড়ে? এ বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ডরিন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক।
পুষ্টিবিদের মতে, রাতে খাবার বাদ দিলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। ডিনার না খেলে পরদিনের নাশতা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় পেট খালি থাকে, যা শরীরে নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। শক্তি কমে যায়, ফলে সকালে ঘুম ভাঙলেও চাঙাভাব ফিরে আসে না। মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘসময় পেট খালি থাকলে গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা আলসারের ঝুঁকি বাড়ে, কারণ পেটে অপ্রয়োজনীয় অ্যাসিড জমতে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে ওজন কমার বদলে শরীরে চর্বি জমা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই ওজন কমানোর উপায় কখনোই রাতে খাবার বাদ দেওয়া নয়। শরীর ঠিকভাবে চলতে হলে জ্বালানি প্রয়োজন, আর সেই জ্বালানি আসে খাবার থেকে। তাই রাতের খাবার বাদ না দিয়ে হালকা ও পুষ্টিকর কিছু খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভালো রাতের খাদ্যাভ্যাস হতে পারে—এক বা দুইটি রুটি সঙ্গে সবজি, সালাদ এবং ডিম বা মাছ বা চিকেন; অথবা ফল ও সবজি দিয়ে বানানো সালাদ সঙ্গে এক বা দুইটি সিদ্ধ ডিম।
রাতে কিছু খাবার পরিহার করাও জরুরি। যেমন—ভাজা-পোড়া খাবার, অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার, এবং রাত ৯টার পরে ভারী খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। শুধু রাতে খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই ওজন কমে না; সারা দিনের খাদ্যাভ্যাসই আসল ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন পরিমিত খাওয়া, বারবার অল্প করে খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার গ্রহণ এবং ভালোভাবে ঘুমানো—এসবই ওজন কমাতে কার্যকর।
পুষ্টিবিদ আরও পরামর্শ দেন—নিজে থেকে হঠাৎ কোনো খাবার বাদ না দিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে ডায়েট প্ল্যান নেওয়া ভালো। কখনোই রাতের খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেবেন না; বরং হালকা, সহজপাচ্য ও সুষম খাবার বেছে নিন। সময়মতো খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে বলা যায়, রাতে খাবার বন্ধ করলে ওজন কমে না, বরং শরীরের ক্ষতিই বেশি হয়। তাই রাতের খাবার বাদ নয়—পরিমিত, স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর রাতের আহারই আপনার জন্য সেরা।



