অনেকেই রাত জেগে বই পড়া, সিনেমা দেখা কিংবা কাজ করার অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। যদিও মাঝে মাঝে রাত জাগা অনিবার্য হতে পারে, তবে এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাত জাগার এই বদঅভ্যাস থেকে দ্রুত সরে না এলে শরীরে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধির আশঙ্কা বেড়ে যায়, এমনকি আয়ুও কমে যেতে পারে।
হার্টের ক্ষতি
ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত না ঘুমালে ধীরে ধীরে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, যার ফলে অনিয়মিত হার্টবিট, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
উচ্চ রক্তচাপ
টানা ৩–৪ দিন রাত জাগলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
ত্বকের সৌন্দর্য হ্রাস
ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ত্বকের কোলাজেন ক্ষয় করে। ফলে মুখে ব্রণ, বলিরেখা, চামড়ার মলিনতা ও চোখের নিচে কালি পড়ে। অল্প বয়সেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায়।
ওজন বৃদ্ধি
রাত জাগার কারণে হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়, ক্ষুধা বাড়ে এবং অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া শুরু হয়। ফলে ওজন ও কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস
ঘুমের অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হলেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা কমে যায়।
মানসিক শক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা কমে যাওয়া
নিয়মিত রাত জাগলে মস্তিষ্কে ক্লান্তি জমতে থাকে, ফলে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজের মানেও এর প্রভাব পড়ে।
মানুষ নিশাচর প্রাণী নয়। তাই শরীর-মন সুস্থ রাখতে হলে পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম অপরিহার্য। রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করে সঠিক জীবনযাপনই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।



