কুমিল্লা বলতেই সবার আগে মাথায় আসে বিখ্যাত মাতৃভান্ডারের রসমালাই আর ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের কথা। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই শহরের পরিচয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন এক মাত্রা—’বাটিক’ । কুমিল্লার বাটিকের কাপড় এখন এতই জনপ্রিয় যে, ক্রেতাদের কাছে এটি একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে ।
শহরের কান্দিরপাড় ও রাজগঞ্জের মাঝামাঝি অবস্থিত মনোহরপুরের ‘হিলটন টাওয়ার’ এখন হয়ে উঠেছে বাটিকের সবচেয়ে বড় আর নির্ভরযোগ্য বাজার । এখানে ঢুকলেই চোখে পড়বে থরে থরে সাজানো বাটিকের শাড়ি, থ্রি-পিস, ছেলেদের শার্ট, ফতুয়া আর পাঞ্জাবির বিশাল সমাহার।
কীভাবে তৈরি হয় এই জাদুকরী কাপড়? কুমিল্লার আনন্দপুর ও কমলপুর গ্রামের কারখানাগুলোতে কারিগরেরা মূলত নারায়ণগঞ্জ থেকে সুতি কাপড় এনে তাতে মোম দিয়ে নিপুণ হাতে নকশা করেন । এরপর রং আর গরম পানির বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় চোখধাঁধানো সব রঙিন পোশাক । পোশাকের পাশাপাশি বাটিকের বিছানার চাদর ও পর্দাও তৈরি হচ্ছে এখানে ।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর সাশ্রয়ী দাম! এখানে মেয়েদের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে । আর ছেলেদের শার্ট বা ফতুয়া মিলবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, এবং পাঞ্জাবি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় । যারা সরাসরি যেতে পারবেন না, তাদের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইনেও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই কাপড় কেনার দারুণ সুযোগ রয়েছে ।
তাই যারা সস্তায় দারুণ সব পোশাক খুঁজছেন, তারা আজই ঘুরে আসতে পারেন কুমিল্লার এই জমজমাট বাটিক বাজার থেকে । আর হ্যাঁ, কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে বিখ্যাত মাতৃভান্ডারের রসমালাইয়ের স্বাদ নিতে কিন্তু একদমই ভুলবেন না !



