আজকাল স্ট্রোক বা ব্রেন অ্যাটাকের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। অনেকেই হঠাৎ কথা বলা, হাত-পা নাড়ানো বা চলাফেরা হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এর অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)। সময়মতো যত্ন ও সচেতনতা বজায় রাখলে এই ভয়াবহ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্ট্রোক কী এবং কেন হয়
অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. দেবর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্ট্রোক মূলত দুই ধরনের—
১️⃣ ইস্কেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke): এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
২️⃣ হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke): এতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে।
দুই ক্ষেত্রেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে না নিলে জীবনহানির ঝুঁকি থেকে যায়। তবে সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
ডা. দেবর্ষির মতে, যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। রক্তচাপের ওষুধ একদিনও বাদ দেওয়া বিপজ্জনক। এমনকি গর্ভাবস্থা বা অসুস্থতার সময়েও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
কম বয়সে স্ট্রোক বাড়ছে কেন
বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর প্রধান কারণ অস্বাস্থ্যকর ও নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন।
দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করা, শরীরচর্চা না করা, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যে অভ্যাসগুলো স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: নিয়মিত ব্লাড প্রেসার মাপুন এবং ওষুধ কখনো বাদ দেবেন না।
খাবারে সচেতন হোন: লবণ ও সোডিয়াম কমান, জাংক ফুড ও প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
শরীরচর্চা করুন: দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: স্থূলতা বা ওবেসিটি স্ট্রোকের বড় কারণ।
ধূমপান ও মদপান ছাড়ুন: এগুলো রক্তচাপ বাড়িয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মানসিক চাপ কমান: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা রক্তচাপ বাড়ায়, তাই রিল্যাক্স করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
যদি কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়—যেমন হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়ানো, হাত-পা অসাড় হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া—তাহলে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
স্ট্রোক হঠাৎ আসে, কিন্তু আগেভাগে সচেতন থাকলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিয়মিত ব্যায়াম—এই সহজ অভ্যাসগুলোই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে।
নিজের প্রতি উদাসীন হবেন না। আজ থেকেই শুরু করুন নিজের স্বাস্থ্যযাত্রা। 💪


