আমরা শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম, ডায়েট আর ফিটনেস নিয়ে যতটা সচেতন, মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়ার কথা ততটাই কম ভাবি। অথচ শরীরের মতো মস্তিষ্কও নিয়মিত চর্চা ও নতুন চ্যালেঞ্জ পেলে আরও সক্রিয়, সজাগ ও কার্যকর থাকে। সুখবর হলো—মস্তিষ্ককে সচল রাখতে কঠিন কোনো ব্যায়াম বা দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের জীবনে খুব সাধারণ কিছু অভ্যাসই হতে পারে কার্যকর ‘ব্রেন এক্সারসাইজ’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে সামান্য পরিবর্তন ও নতুন অভ্যাস গড়ে তুললে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি দীর্ঘদিন তীক্ষ্ণ রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করা এমন ১১টি সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাসের কথা।
একটি ‘সুস্থ’ নেশা বা আগ্রহ তৈরি করা মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী। নতুন ভাষা শেখা, ইতিহাস পড়া, গান শেখা কিংবা স্ট্যাম্প বা কয়েন সংগ্রহ—যে কোনো কৌতূহলমূলক কাজে নিয়মিত সময় দিলে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হয়। এই আগ্রহ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করলে মস্তিষ্ক আরও বেশি উদ্দীপনা পায়।
দাঁত ব্রাশ করার সময় বা হালকা কাজে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস মস্তিষ্ক ও শরীরের সমন্বয় বাড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যালান্স ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর এই অভ্যাস সেই দক্ষতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
একসঙ্গে পাঁচটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। রান্নার সময় শুধু কাজেই মনোযোগ না দিয়ে খাবারের গন্ধ, রঙ, শব্দ, স্পর্শ—সব অনুভব করুন। এতে মস্তিষ্ক একাধিক তথ্য একসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করতে শেখে।
দৈনন্দিন রুটিনে ছোট পরিবর্তন আনুন। প্রতিদিন একই পথে হাঁটা বা যাতায়াতের বদলে মাঝে মাঝে অন্য রাস্তা নিন। এই সামান্য পরিবর্তনই মস্তিষ্ককে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে এবং চারপাশকে নতুন চোখে দেখার সুযোগ দেয়।
সতর্কতার সঙ্গে পেছন দিকে হাঁটার অভ্যাসও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি ব্যালান্স ও মনোযোগ বাড়ায় এবং মস্তিষ্ককে অচেনা পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়।
চুইংগাম চিবানো মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এতে মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
হালকা গুনগুন করা বা নরম গলায় গান গাওয়া মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে মন ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখে।
মেমোরি থেকে মানচিত্র আঁকার অভ্যাস স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কার্যকর। নিজের পাড়া বা শহরের একটি মানচিত্র কাগজে আঁকার চেষ্টা করুন এবং পরে আসল মানচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এতে স্মৃতি ও মনোযোগ দুটোই শক্তিশালী হয়।
অন্য হাত ব্যবহার করার চর্চা—যেমন ডান হাতের বদলে বাম হাতে লেখা বা খাওয়া—মস্তিষ্কের নতুন অংশকে কাজে লাগাতে সাহায্য করে। শুরুতে অস্বস্তিকর হলেও নিয়মিত করলে মস্তিষ্ক আরও নমনীয় হয়।
গোসলের সময় অল্প সময়ের জন্য চোখ বন্ধ করে সাবান বা শ্যাম্পু ধরার চেষ্টা করলে স্পর্শ ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভরতা বাড়ে। এতে মস্তিষ্ক দৃষ্টির বাইরে অন্য অনুভূতিগুলোকে কাজে লাগাতে শেখে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
পড়ার ধরন বদলানোও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। কখনো উচ্চস্বরে পড়া, কখনো হালকা শব্দের মধ্যে পড়া—এ ধরনের পরিবর্তন মস্তিষ্কের দুই পাশকে একসঙ্গে সক্রিয় করে এবং শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সজাগ, কৌতূহলী ও কর্মক্ষম থাকে। খুব বেশি সময় বা পরিশ্রম ছাড়াই প্রতিদিনের জীবনে এসব ব্রেন এক্সারসাইজ যুক্ত করা সম্ভব, আর এর সুফল মিলবে দীর্ঘমেয়াদে।
সূত্র: ব্রাইট সাইড



