ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই মানেই উত্তেজনা, নাটকীয়তা এবং স্মরণীয় সব মুহূর্তের সমাহার। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ কিংবা মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত একক গোল—এই দুই দলের দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এবার সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়। আগামী বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, যা হবে বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের পঞ্চম মুখোমুখি লড়াই।
বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৬২ সালে গ্রুপ পর্বে, যেখানে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে জয় পায়। এরপর ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংলিশরা। তবে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই ম্যারাডোনা করেন বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃত অসাধারণ একক গোলটি। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোতেও দুই দলের লড়াই ছিল সমান তীব্র। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল এবং ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সর্বশেষ ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
পরিসংখ্যানের বিচারে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রেকর্ড কিছুটা ভালো। সরাসরি ম্যাচে ইংল্যান্ডের তিনটি জয় থাকলেও আর্জেন্টিনার জয় একটি। এছাড়া একটি ম্যাচ টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই লড়াই—১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালের ম্যাচ—দুটিতেই শেষ হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা, যা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
আগামী সেমিফাইনাল তাই শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিহাস, আবেগ, গৌরব এবং প্রতিশোধের গল্প মিশে থাকা এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।



