দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতে প্রবেশ করল।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা আলোচনার ফল হিসেবেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই ইপিএ কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পারস্পরিক সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় খাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ মোট ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। এর বিপরীতে বাংলাদেশও জাপানের জন্য বাজার সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে, যার ফলে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত অথবা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় কাঁচামালের জটিল শর্ত ছাড়াই এখন থেকে বাংলাদেশি পোশাক সহজে জাপানে রপ্তানি করা সম্ভব হবে, যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংসহ প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে জাপানে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের পণ্যের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে, যা দেশকে বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



