বর্ষাকাল অনেকের কাছে প্রিয় ঋতু হলেও, এই সময়টিতে নানাবিধ সংক্রমণ ও অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, জমে থাকা নোংরা পানি ও মশার বংশবিস্তার বর্ষাকালকে করে তোলে রোগ ছড়ানোর অনুকূল সময়। এ সময় জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চামড়ার রোগ ও ভাইরাল সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে এমন কিছু ঘরোয়া উপায় তুলে ধরা হলো, যা বর্ষাকালে নিয়মিত চর্চা করলে সহজেই শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব—
১. আদা ও মধুর মিশ্রণ
প্রতিদিন সকালে এক চা চামচ আদার রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা, কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। আদায় আছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, আর মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে।
২. তুলসী পাতা
তুলসী পাতায় প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর উপাদান আছে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৪-৫টি তাজা তুলসী পাতা খাওয়া যেতে পারে। চাইলে তুলসী, আদা ও লবঙ্গ দিয়ে হালকা চা তৈরি করে পান করাও উপকারী।
৩. লেবু ও আমলকীর ভিটামিন সি
ভিটামিন সি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে সংক্রমণ প্রতিরোধ সহজ হয়। আমলকীর রসও সমানভাবে কার্যকর।
৪. হলুদ দুধ (গোল্ডেন মিল্ক)
এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ কাঁচা হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। হলুদের কুরকুমিন উপাদান ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
৫. রসুন
রসুনে থাকা অ্যালিসিন অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণে সমৃদ্ধ। প্রতিদিন ১-২টি কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়া বা রান্নায় ব্যবহার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৬. পর্যাপ্ত পানি পান ও হাইড্রেশন
বর্ষাকালে কম ঘাম হলেও শরীর ভেতর থেকে জলশূন্য হয়ে পড়তে পারে। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ভাতের মাড় ইত্যাদি পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
৭. হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে।
৮. বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
বর্ষাকালে ঘরবাড়ি স্যাঁতসেঁতে হয়ে ছত্রাক ও জীবাণুর আবাসস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই জানালা খোলা রেখে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে দিন। রান্নাঘর, বাথরুমসহ গোটা বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
সতর্কতামূলক পরামর্শ
বাইরের খোলা খাবার, ফাস্টফুড ও খোলা পানীয় থেকে দূরে থাকুন।
পানি ফুটিয়ে অথবা ফিল্টার করে পান করুন।
নখ কেটে রাখুন, হাত-মুখ ধুয়ে খাবার গ্রহণ করুন।
মশা ও পোকামাকড় থেকে বাঁচতে মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
বর্ষাকালে শরীরের যত্নে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে অনেকটাই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। প্রাকৃতিক উপায়ে সুরক্ষা ও সচেতনতা—এই দুই মিলেই এই ঋতিতে সুস্থতা ধরে রাখা সম্ভব।



