চলতি বছর FIFA আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে United States, Canada ও Mexico–তে। আসন্ন এই মেগা আসর ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। টিকিটের মূল্য প্রকাশের পর তা আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি হওয়ায় সমালোচনা তৈরি হলেও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি।
ফিফা সভাপতি Gianni Infantino জানিয়েছেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে ‘অবিশ্বাস্য’ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৭০ লাখ টিকিটের বিপরীতে মাত্র চার সপ্তাহে জমা পড়েছে ৫০ কোটি ৮০ লাখ আবেদন—যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন গুণের সমান। জানুয়ারিতে মূল বিক্রয়পর্বে ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই তথ্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত Mar-a-Lago রিসোর্ট থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যা প্রচার করে CNBC। তবে এই বিপুল সংখ্যার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে The New York Times।
সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—এত বিপুল আবেদন ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসেছে কি না। যদিও ফিফা এই অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করা হয়েছে। কোন ম্যাচে কত আবেদন পড়েছে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা না হলেও ফিফা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, শেষ পর্যন্ত সব ম্যাচের টিকিটই বিক্রি হয়ে যাবে। কিছু টিকিট শেষ মুহূর্তের বিক্রির জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এদিকে সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের দামকে ‘অতিরিক্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে, আর পুনঃবিক্রয় বাজারে ইতোমধ্যেই রেকর্ড দামে টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইনফান্তিনোর মতে, উত্তর আমেরিকার তিন দেশে একযোগে আয়োজন হওয়ায় এই বিশ্বকাপকে ঘিরে আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, এই অর্থের প্রতিটি ডলার সংস্থার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।



