মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে স্টারলিংকভিত্তিক স্যাটেলাইট সংযোগসেবা চালু করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান, অবস্থান শেয়ার এবং ছোট ফাইল পাঠানোর মতো সুবিধা পাওয়া যাবে। সেবাটি চালুর প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে অপারেটরটি। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্বাচিত মাসিক প্যাকের আওতায় পাওয়া যাবে এ সুবিধা।
সেবাটি ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। বাংলালিংক সিমের পাশাপাশি প্রযুক্তি সমর্থিত ফোরজি (4G) ফোন থাকলেই এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে ফোনের মডেল ও সেবার শর্ত পূরণ করতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে স্যাটেলাইট কাভারেজের আওতায় থাকতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলালিংকের মাইবিএল (MyBL) অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। অপারেটরের তথ্য অনুযায়ী, সেবাটি ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল বা জটিল সেটআপের প্রয়োজন নেই।
বাংলালিংকের ঘোষণা অনুযায়ী, চালুর প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করা যাবে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্বাচিত মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে সুবিধাটি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানিয়েছে অপারেটরটি। তবে দ্বিতীয় মাস থেকে কোন কোন প্যাকে সুবিধাটি পাওয়া যাবে, তা জানতে বাংলালিংকের নির্ধারিত প্যাক ও শর্ত যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট কাভারেজ, ফোনের সামঞ্জস্য এবং ব্যবহারকারীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। খোলা আকাশের নিচে থাকলে সংযোগ স্থাপনে সুবিধা হতে পারে। অন্যদিকে ভবন, পাহাড় বা বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এ সেবার মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগ, বার্তা আদান-প্রদান, অবস্থান শেয়ার এবং ছোট ফাইল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, সমুদ্র কিংবা দুর্যোগের সময় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়লে প্রযুক্তিটি সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে জেলে, সমুদ্রে কর্মরত ব্যক্তি, ভ্রমণকারী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি যোগাযোগের বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এ সেবাকে প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেটের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এটি উচ্চগতির বা সীমাহীন ইন্টারনেট সেবা নয়; বরং প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্যই এ সেবা চালু হওয়ায় অন্য অপারেটরের সিম ব্যবহার করে একই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। শুধু ফোরজি ফোন থাকলেই হবে না, বাংলালিংক সিম ও প্রযুক্তি সমর্থিত ফোনও প্রয়োজন।
ফোরজি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকার পরও স্যাটেলাইট সংযোগ না পেলে প্রথমে ফোনের মডেলটি সেবার উপযোগী কি না, তা যাচাই করতে হবে। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সেবার বিস্তারিত তথ্য দেখে ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্যাটেলাইট কাভারেজ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব বিষয় যাচাই করার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ফোনের সামঞ্জস্য, সেবার প্রাপ্যতা এবং প্যাকের শর্ত সম্পর্কে জেনে নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: বাসস



