বর্তমান বিশ্বে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটি কমে যাওয়া একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল বংশগতি বা পরিবেশ দূষণই নয়—আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। অজান্তেই খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু পরিচিত খাবার শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণমান ও গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। ২০২৬ সালের আধুনিক জীবনযাত্রায় সুস্থ থাকা এবং ভবিষ্যতে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রক্রিয়াজাত বা প্রসেসড মাংস। সসেজ, সালামি, বেকন কিংবা ক্যানজাত মাংসে প্রচুর প্রিজারভেটিভ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শুক্রাণুর স্বাভাবিক গঠন বা মরফোলজিকে দুর্বল করে দেয়। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে প্রজনন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত চিনি ও সফট ড্রিঙ্কসও প্রজনন ক্ষমতার জন্য বড় শত্রু। সোডা, এনার্জি ড্রিঙ্কস ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে, যা সরাসরি শুক্রাণুর গতিশীলতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি চিনির কারণে সৃষ্ট স্থূলতা টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়িয়ে দেয়—যা পুরুষদের ফার্টিলিটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সয়াবিন ও সয়া জাতীয় খাবার নিয়েও সতর্কতা জরুরি। সয়াবিনে থাকা আইসোফ্ল্যাভোনস এক ধরনের উদ্ভিদজাত ইস্ট্রোজেন, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। যদিও পরিমিত পরিমাণে সয়া ক্ষতিকর নয়, তবে নিয়মিত অতিরিক্ত সয়া মিল্ক, সয়া প্রোটিন বা সয়াবিন খেলে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ ভাজাপোড়া ও ফাস্ট ফুডও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পিৎজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও কড়া তেলে ভাজা খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং প্রজনন অঙ্গের কোষগুলোর ক্ষতি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খান, তাদের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
খাবারের ধরন ছাড়াও খাবার সংরক্ষণের পাত্রের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্লাস্টিক প্যাকেট বা কনটেইনারে থাকা বিসফেনল-এ (BPA) নামক রাসায়নিক হরমোনের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। প্লাস্টিক পাত্রে খাবার গরম করা বা প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আশার কথা হলো—প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এর উন্নতি সম্ভব। খাদ্যতালিকায় জিঙ্ক ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার যেমন কুমড়ার বীজ, ডিম, কলা ও সবুজ শাকসবজি রাখা উচিত। রঙিন ফল ও বাদামে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুক্রাণুর গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করলে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



