নেপাল-বাংলাদেশ দ্বিতীয় ফিফা প্রীতি ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর মঙ্গলবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ দলের ঢাকায় ফেরার ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কাঠমান্ডুর ক্রাউন ইম্পেরিয়াল হোটেল থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মতো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। পরে জানানো হয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক হংসরাজ পাণ্ডে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে কোঠেশ্বর এলাকায় ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ না হলেও স্থানীয় অস্থিরতার কারণে ক্রু সদস্যরা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে উড্ডয়নও সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বুদ্ধ এয়ারসহ সব এয়ারলাইনস ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ম্যাচ কভার করতে ঢাকা থেকে অন্তত ১৫ জন ক্রীড়া সাংবাদিক কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগের ফিরতি ফ্লাইট ছিল আজ বা আগামীকাল। তবে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় সময়মতো ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়ের জানান, সাংবাদিকরা থামেলের মুসলিম চক এলাকার কাছাকাছি বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন। যদিও সেখানে সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি, তবুও আন্দোলনের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে হোটেলের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাইরে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররাও একইভাবে অবরুদ্ধ রয়েছেন। বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, হোটেলের আশপাশে বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ চলায় ফুটবলাররা বাইরে বের হতে পারেননি। সবাই টিম হোটেলেই অবস্থান করছেন।
এদিকে, একজন ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে পৌঁছে ইমিগ্রেশনও সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় তিনি আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিক প্রজ্জল ওলি তাকে মোটরসাইকেলে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।
বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিশেষ ফ্লাইটে করে জাতীয় দলের ফুটবলার ও আটকে পড়া সাংবাদিকদের ঢাকায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে।



