আমরা সবাই সুস্থ ও সুখী থাকতে চাই, আর এর জন্য প্রয়োজন ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা। নিয়মিত প্রোটিন, ফল ও সবজি খাওয়া এবং সক্রিয় থাকা নিঃসন্দেহে উপকারী। তবুও ব্যস্ততা, আলসেমি বা সুবিধার কারণে অনেকেই কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভ্যাস স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিচের অভ্যাসগুলো নীরবে আমাদের শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল পান করাও ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞ ড. সঞ্জয় জুনেজা জানান, যে কোনো মাত্রার অ্যালকোহলই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে স্তনের ক্যানসার। একইভাবে যথেষ্ট ফল ও সবজি না খাওয়া আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণু নষ্ট করে, যা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেকে মনে করেন মাঝে মধ্যে ধূমপান ক্ষতিকর নয়; কিন্তু ড. জুনেজা বলেন, ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। অল্প বা সামাজিকভাবে ধূমপান করলেও ফুসফুস, গলা, পেটসহ নানা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। হুক্কাও সমান ক্ষতিকর—কখনো আরও বেশি।
অনেকেই নাক ডাকাকে সাধারণ বিষয় মনে করেন, কিন্তু ড. টনিয়া ফার্মারের মতে এটি স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন নাকের স্প্রে ও ডিকনজেস্ট্যান্ট নিয়মিত ব্যবহার না করতে; কারণ এতে রিবাউন্ড কনজেশন হয়—স্প্রে বন্ধ করলেই নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা আজকের কর্মজীবনে সাধারণ অভ্যাস। ড. জেনিফার ব্রাউন বলেন, দিনে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি বসে থাকা হৃদরোগ, স্থূলতা ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সম্ভাবনা বাড়ায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে—উচ্চ রক্তচাপ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
অনেকেই নিয়মিত ডাক্তার দেখানো এড়িয়ে যান, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের মতো ‘নীরব ঘাতক’কে অজান্তে বাড়তে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত চেকআপে এসব সমস্যা আগেই শনাক্ত হয়।
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কেবল পরিবেশ নয়, আমাদের শরীরেও ক্ষতি করে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মস্তিষ্ক পর্যন্ত জমা হতে পারে, তাই যতটা সম্ভব কাচ বা স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা উত্তম। এ ছাড়া চিনিযুক্ত পানীয়, যেমন সোডা, এনার্জি ড্রিংক ও প্যাকেট জুস স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেকে হঠাৎ কম শোনা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ড. ফার্মার বলেন, চিকিৎসাহীন হিয়ারিং লস মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আর সবচেয়ে সাধারণ ভুল—ব্যায়াম না করা। ব্যস্ততা থাকলেও প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা সামান্য নড়াচড়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: Good Housekeeping



