হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে পেতে এবার এগিয়ে এসেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা। এ লক্ষ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জরুরি তথ্য প্রচারকারী প্ল্যাটফর্ম ‘মুন অ্যালার্ট’-এর সঙ্গে যৌথভাবে ‘মিসিং পারসনস ব্রডকাস্ট’ উদ্যোগ চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় দেশজুড়ে ৭০০টির বেশি ওয়ালটন প্লাজার টিভি স্ক্রিনে যাচাইকৃত নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত প্রচার করা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে ওয়ালটন প্লাজা ও মুন অ্যালার্টের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন ওয়ালটন প্লাজার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রায়হান এবং মুন অ্যালার্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান জিরো মিসিং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান। এ সময় ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ক্রিয়েটিভ পার্টনার পপ-ফাইভের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাসুদ পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন প্লাজার এমডি মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ওয়ালটন প্লাজা শুধু পণ্য বিক্রয় ও সেবাদানের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি; সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য দ্রুত ও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মুন অ্যালার্টের সঙ্গে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিকটস্থ ওয়ালটন প্লাজায় গিয়ে সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য দেখতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মুন অ্যালার্টের হেল্পলাইন ১৩২১৯ ও ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে রিপোর্ট করা এবং পূর্বে করা রিপোর্টের তথ্য অনুসরণ করার সুযোগ থাকবে।
ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ বলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত ওয়ালটন প্লাজাগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও প্লাজার টিভি স্ক্রিনগুলোকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য প্রচারে কাজে লাগানো সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। তার মতে, উদ্যোগটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে পেতে এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মুন অ্যালার্টের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত রহমান বলেন, যাচাইকৃত তথ্য যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এমন অনেক মানুষের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে, যেখানে মুন অ্যালার্টের একার পক্ষে পৌঁছানো কঠিন। এ মানবিক উদ্যোগে ওয়ালটন প্লাজাকে পাশে পেয়ে তারা আনন্দিত বলেও জানান তিনি।



