যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মিডটাউনে একটি বাণিজ্যিক অফিস ভবনে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র অ্যাডামস জানান, গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত পুলিশ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করে তিনি জানান, তার নাম দিদারুল ইসলাম। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (NYPD) তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন। মেয়র জানান, অফিসার দিদার বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। তার দুই সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। “সে চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছে,” বলেন মেয়র অ্যাডামস।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, দিদারুল ইসলামকে একটি কোম্পানির অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ‘পেইড ডিটেইল’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এ ধরণের নিয়োগে ইউনিফর্ম পরা পুলিশ অফিসাররা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করেন। ঘটনার সময় তিনি তাঁর কর্তব্য পালন করছিলেন।
এদিকে, হামলার কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর কাছ থেকে একটি এম-ফোর রাইফেল এবং একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে, যার সঙ্গে গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ছিল। তার গাড়ি থেকে নেভাদা রাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্সও পাওয়া যায়। তবে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিবিসি’র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, হামলাকারী নিজেই আত্মঘাতী গুলিতে প্রাণ হারায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ইতিহাস ছিল এবং এটি আগে থেকেই লাস ভেগাস কর্তৃপক্ষের কাছে নথিভুক্ত ছিল।
বিবিসি নিউজের সংবাদদাতা ইন্দ্রানী বসু বলেন, “ঘটনাস্থলের পাশেই আমি ছিলাম। হঠাৎ দেখি কয়েকটি পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স এসে দাঁড়ায়। একজন পথচারী জানান, তিনি ছয় রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে একজনকে স্ট্রেচারে করে বুকে ব্যান্ডেজ বেঁধে নিয়ে যেতে দেখা যায়।”
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশের নজরদারি ক্যামেরায় দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অস্ত্র হাতে হেঁটে যাচ্ছেন, চোখে সানগ্লাস। কী কারণে সে ভবনটিকে টার্গেট করেছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ কমিশনার টিশ বলেন, “আমরা এখনও তার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছি।”
মেয়র অ্যাডামস বলেন, “এই ভয়াবহ হামলা আবারও মনে করিয়ে দেয় বন্দুক পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রে কতটা সহজ। বন্দুক সহিংসতা আমাদের সমাজের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে গেছে। এখনই সময় নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার।”



