সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। শুধু আয়ু নয়, অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের শরীর ও মস্তিষ্কের বার্ধক্য পুরুষদের তুলনায় ধীরে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে হরমোন, শারীরিক গঠন, জীবনযাপন ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্মিলিত প্রভাব।
চিকিৎসক ও গবেষকদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীর নারীদের তুলনায় দ্রুত ক্ষয়ের দিকে এগোয়। পেশিশক্তি কমে যাওয়া, হাড় দুর্বল হয়ে পড়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর একটি বড় কারণ হরমোনগত পার্থক্য। পুরুষদের শরীরে থাকা টেস্টোস্টেরন হরমোন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কমতে শুরু করে, যার ফলে পেশি ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি এবং অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
অন্যদিকে, নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন হৃদযন্ত্র ও হাড়কে দীর্ঘদিন সুরক্ষা দেয়। এই হরমোন তুলনামূলকভাবে বেশি সময় সক্রিয় থাকায় নারীদের শরীরে বার্ধক্যের গতি ধীর হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পুরুষদের মস্তিষ্কের বয়সও নারীদের তুলনায় দ্রুত বাড়ে। স্মৃতি, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের অংশগুলো পুরুষদের ক্ষেত্রে আগেই ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করে, যার ফলে বয়সজনিত মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
তবে কেবল শারীরিক গঠন বা হরমোনই নয়, জীবনযাপনও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের মধ্যে ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক পুরুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এড়িয়ে যান, ফলে রোগ শনাক্ত হয় দেরিতে। এসব অভ্যাস বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।
এর বিপরীতে, নারীরা সাধারণত স্বাস্থ্য বিষয়ে বেশি সচেতন হন। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, খাদ্যাভ্যাসে যত্নবান হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ব্যবধান পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে পুরুষরাও বার্ধক্যের গতি অনেকটাই কমাতে পারেন। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পুরুষদের দ্রুত বয়স বাড়ার পেছনে শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়, জীবনধারার প্রভাবও বড়। সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার গতি ধীর করা সম্ভব—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
সূত্র: আজকাল



