নাক ডাকা অনেকের জন্য স্বাভাবিক মনে হলেও এটি কখনো কখনো স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ঘুমের সময় যখন নাক বা মুখ দিয়ে বাতাস প্রবাহের পথ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তখন আশপাশের টিস্যুগুলোর কাঁপন থেকেই এই শব্দের উৎপত্তি হয়। তাই নাক ডাকার কারণ ও প্রতিকার জানা ঘুমের মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নাক ডাকার কিছু সাধারণ কারণ
নাক বন্ধ থাকা: সর্দি, অ্যালার্জি বা বাঁকা নাকের হাড়ের কারণে সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে।
গলার পেশি ঢিলে হয়ে যাওয়া: ঘুম গভীর হলে বা মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর গলার পেশি ঢিলে হয়ে গিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়।
অতিরিক্ত ওজন: ঘাড়ে বা গলায় অতিরিক্ত চর্বি থাকলে শ্বাসনালির ওপর চাপ পড়ে, ফলে বাতাস চলাচলে সমস্যা হয়।
চিত হয়ে ঘুমানো: এই অবস্থায় জিভ পিছনের দিকে চলে গিয়ে শ্বাসনালি আংশিকভাবে আটকে যায়, এতে নাক ডাকার শব্দ হয়।
বয়স বাড়া: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলার পেশি দুর্বল হয়, শ্বাসনালি সরু হয়ে নাক ডাকার সমস্যা বাড়ে।
কখন নাক ডাকা চিন্তার বিষয়
যদি প্রতিদিন উচ্চ শব্দে নাক ডাকেন, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় বা শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, তবে তা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এতে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়, শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না এবং দিনের বেলায় ক্লান্তিভাব, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নাক ডাকা কমানোর উপায়
১. জীবনধারায় পরিবর্তন
ওজন কমানো
মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধ পরিহার
পাশ ফিরে ঘুমানো
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো
প্রচুর পানি পান করা
২. ঘুমের পরিবেশ ঠিক রাখা
ঘর ধুলাবালি মুক্ত রাখা
প্রয়োজনে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা
৩. নাক বন্ধ থাকলে করণীয়
নাক পরিষ্কারের জন্য স্যালাইন বা স্প্রে ব্যবহার
নাকের হাড় বাঁকা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ
৪. বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি
স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে CPAP মেশিন ব্যবহার
ডেন্টাল ডিভাইস ব্যবহারে জিভ ও চোয়াল সঠিক স্থানে রাখা যায়
গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে
নাক ডাকা তেমন গুরুতর কিছু মনে না হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদি হলে আপনার ঘুম এবং স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক সময় সমস্যার সমাধান হয়। তবে উপসর্গ যদি নিয়মিত হয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



