জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফরিদপুরের ময়েজ মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মন্ত্রমুগ্ধ করে দিয়েছেন লায়লা বাউল। জীর্ণ শাড়ি ও চপ্পল পায়ে মঞ্চের এক কোণে দাঁড়িয়ে তিনি খালি গলায় গেয়েছেন ‘নয়নভরা জল গো তোমার’। তাঁর গায়কীতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অতিথি-শ্রোতারা। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এক রাতেই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লায়লা বাউল।
শনিবার (২৪ মে) বিকেলে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়াই এক ছিন্নমূল নারীর দরদভরা গান শুনে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নেটিজেনদের মন্তব্যে উঠে এসেছে মুগ্ধতা ও ভালোবাসা। কেউ কেউ ভারতের ভাইরাল শিল্পী রানু মণ্ডলের সঙ্গেও লায়লা বাউলের তুলনা করছেন। একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হৃদয়ের অতল থেকে গাওয়া এই গান অন্তর ছুঁয়ে যায়।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই কী অসাধারণ আবেগ! রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন প্রতিভার মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’
লায়লা বাউল পদ্মার বুকে রাশি রাশি জল আর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ভেসে বেড়ান। অনেকেই তাকে চেনেন ‘পথের শিল্পী’ বলে। কথিত আছে, কোনো ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি হেঁটে হেঁটে আজমির শরিফ পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। যাত্রাপথে তিনি হয়তো অগণিত মানুষ দেখেছেন, স্বপ্নের ঘুড়ি তাড়া করে ফিরেছেন, কিন্তু কখনো গান গাওয়া থামাননি লায়লা বাউল।



