হাঁটা শুধু ওজন কমানো নয়, বরং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং পেশির গঠন বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। তবে হাঁটার সময়সীমার চেয়ে এর গতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট জোরে হাঁটলেই মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।
এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজি সেন্টারের পরিচালক ড. ওয়েই ঝেং। এতে ৮৬ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়—যাদের হাঁটার অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং গবেষণাটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলে। ফলাফলে দেখা যায়, যারা নিয়মিত দ্রুত হাঁটেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেকটাই কম।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বার্ষিক আয় ছিল ১৫ হাজার ডলারের কম এবং দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। এই গোষ্ঠী সাধারণত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। গবেষক ঝেংের মতে, যারা একেবারেই হাঁটেন না, তারাও যদি দিনে মাত্র ১৫ মিনিট হাঁটা শুরু করেন, তবে তা থেকেও উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকার মিলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। তবে, এমন না পারলেও দিনে মাত্র ১৫ মিনিট জোরে হাঁটার মাধ্যমেও স্বাস্থ্য উপকার অর্জন সম্ভব। যদিও ধীরে হাঁটারও কিছু সুফল রয়েছে, তবে মাঝেমধ্যে গতি বাড়ালে উপকারিতা আরও বাড়ে। জাপানে বর্তমানে এই ধরনের ইন্টারভ্যাল হাঁটা (দ্রুত ও ধীর হাঁটার মিলিত রীতি) ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং এটি কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



