অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল! প্রায় ৯ বছর পর আবারও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ১১১ রানের সহজ লক্ষ্য ২৭ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় টাইগাররা, তুলে নেয় ৭ উইকেটের দারুণ জয়। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের দেওয়া ১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ৭ রানেই ২ উইকেট হারায় দলটি। অভিষিক্ত পেসার সালমান মির্জার জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ তামিম ও লিটন দাস—দুজনেই করেন ১ রান।
এরপর দলের হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহিদ হৃদয়। দুজন মিলে গড়েন ৭৩ রানের দুর্দান্ত জুটি। হৃদয় ৩৭ বলে ৩৬ রান করে আউট হলেও, ইমন শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রানে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। জাকের আলি অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে। এটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ইমনের টানা দ্বিতীয় ফিফটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। দ্বিতীয় ওভারেই সাইম আইয়ুবকে আউট করে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর শেখ মেহেদি হাসান, তানজিম সাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান একে একে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দলীয় ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানকে কিছুটা লড়াইয়ে রাখেন ফখর জামান, যিনি ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন।
তবে শেষ ওভারে ফের ধস নামে পাকিস্তান শিবিরে। তাসকিন আহমেদের করা ওভারের প্রথম তিন বলে পড়ে শেষ ৩ উইকেট—ফাহিম আশরাফ, সালমান মির্জা ও আব্বাস আফ্রিদি ফিরলে ১১০ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। আগের রেকর্ড ছিল ১২৯/৭, ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে।
বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৩.৩ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি। অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমান মাত্র ৬ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট—যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে পূর্ণ ৪ ওভারের স্পেলে সর্বনিম্ন রান দেওয়ার রেকর্ড।
অধিনায়ক লিটন দাসের অধীনে এটি টানা তৃতীয় জয়, যা দলকে আত্মবিশ্বাস ও সিরিজ জয়ের দিকে এক ধাপ এগিয়ে দিল।



