তেঁতুলের নাম শুনলেই অনেকের মুখে পানি চলে আসে। তবে এই জনপ্রিয় ফলটি নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা। বিশেষ করে একটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো—তেঁতুল খেলে শরীরের রক্ত পানি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সিলেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ডায়াবেটিস এডুকেটর ও পুষ্টিবিদ স্বর্ণালী দাস বিজয়া।
তিনি জানান, “তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়”—এটি নিছক কুসংস্কার। তেঁতুলে অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট (রক্ত জমাট বাধা রোধকারী) ও অ্যান্টিপ্লেটলেট (রক্তকণার আস্তরণ রোধকারী) গুণ আছে, যার ফলে এটি ব্লাড থিনার হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ এটি রক্তের ঘনত্ব কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। তবে রক্ত পাতলা হওয়া আর রক্ত পানি হয়ে যাওয়া এক জিনিস নয়।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, রক্তের পিএইচ মাত্রা যদি পানির পিএইচের সমান হয়ে যেত, তবেই রক্ত পানি হয়ে যেত। তবে শরীরের বাফার সিস্টেম এই পিএইচ মানকে স্বাভাবিক রাখে, তাই সহজে এমন কিছু ঘটে না। ফলে স্বাস্থ্যবান মানুষের ক্ষেত্রে তেঁতুল খেয়ে রক্ত পানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
তেঁতুলের উপকারিতা
তেঁতুলে বিভিন্ন ধরনের ফাইটোক্যামিকেল থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি হাইপারগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদান, যা হৃদরোগ, ক্যানসার এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুলের নির্যাস লিভারের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং এতে থাকা প্রোকিয়েনিডিন উপাদান ফ্রি র্যাডিকাল ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে।
তেঁতুল রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে রক্তনালিতে চর্বির স্তর জমা হতে বাধা দেয়। ফলে এটি এথেরোস্ক্লেরোসিস রোগের ঝুঁকি কমায় এবং লিভারে চর্বি জমার প্রবণতাও হ্রাস করে।
তেঁতুলে থাকা ভিটামিন C কোলাজেন উৎপাদনে সহায়ক, যা দ্রুত ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে। এই কারণে টকজাতীয় ফল, বিশেষ করে তেঁতুল, ঘা সারাতে কার্যকর বলেও বিবেচিত হয়।


