ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে নবান্ন উৎসব–১৪৩২, যার আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকালে টিএসসির পায়রা চত্বরে উৎসবের উদ্বোধন হয়। লাঠিখেলা, লোকসংগীত, নাচ–গানসহ লোকজ সংস্কৃতির নানা আয়োজনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বক্তব্য শেষে ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ লাঠিখেলা ও সাংস্কৃতিক ক্লাব’ লাঠিখেলার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করে। দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেন রাকিব; তার মতে, তরুণ সমাজকে দেশীয় সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এমন উৎসব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, আগের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ভুলে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশীয় ঐতিহ্যের অনেক অংশ ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছাত্রদলের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বেশি বেশি সাংস্কৃতিক আয়োজন দেশের ঐতিহ্যবোধকে আরও দৃঢ় করে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তার বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে বড় বড় ইভেন্টে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়মিতভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিদেশি শিল্পীদের মাধ্যমে অনুষ্ঠান করিয়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাইরে চলে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতির ধারা প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং যারা দেশীয় সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করেছে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
উৎসবটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক। রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে ‘কৃষকের দুঃখ’ শিরোনামে প্রবন্ধ পাঠ, নাচ–গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।



