বাংলাদেশে ডায়রিয়া একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষাকাল বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। ডায়রিয়ার সময় দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সঠিক খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ‘ব্রাট ডায়েট’ অনুসরণ করলে দারুণ উপকার মেলে।
ব্রাট ডায়েট কী?
‘BRAT’ একটি ইংরেজি শব্দ, যার প্রতিটি অক্ষর একটি সহজপাচ্য খাবারের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।
B মানে Banana (কলা)
R মানে Rice (ভাত)
A মানে Applesauce (আপেলের ঘন রস)
T মানে Toast (টোস্ট বা পোড়া পাউরুটি)
এই খাবারগুলো হজমে সহজ এবং পাকস্থলীকে কিছুটা “বিশ্রাম” দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ডায়রিয়ার সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়, ব্রাট ডায়েট সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্রাট ডায়েট
বাংলাদেশে কলা, ভাত ও টোস্ট সহজেই পাওয়া যায়। যদিও আপেলের ঘন রস (Applesauce) তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া যায়, তবে এর পরিবর্তে সেদ্ধ করা আপেল খাওয়া যেতে পারে। কেউ চাইলে সেদ্ধ কলা ও মুড়ি একসাথে খেতে পারেন, যা অনেকেই উপকারী মনে করেন। সাদা ভাত, সেদ্ধ আলু, পাতলা সুজি ও ওরাল স্যালাইনও ডায়রিয়ার সময় বেশ কার্যকর।
ব্রাট ডায়েটের উপকারিতা
এই ডায়েট হজমে সহজ, পেট ঠান্ডা রাখে এবং মল পাতলা হওয়া কমায়। পেট ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে তা কমাতেও সাহায্য করে। ডায়রিয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে ব্রাট ডায়েট সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেও সহায়তা করে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের জন্য এই ডায়েট নিরাপদ ও কার্যকর।
কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?
যদি ডায়রিয়া দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয়, জ্বর আসে, পায়খানায় রক্ত থাকে বা শরীর চরমভাবে দুর্বল লাগে, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পানি ও খাবার যেন সবসময় পরিষ্কার থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
ব্রাট ডায়েট সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং ডায়রিয়ার সময় অনুসরণযোগ্য একটি নিরাপদ খাদ্য পরিকল্পনা। প্রতিটি পরিবারেই এই উপাদানগুলো থাকে বলেই এটি বাস্তবায়ন সহজ। সচেতন থাকুন, বিশুদ্ধ পানি পান করুন, এবং ডায়রিয়ার মতো রোগ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।


