
প্রতিদিন যে টাকা আমরা পরম যত্নে মানিব্যাগে গুছিয়ে রাখি, সেই টাকাই কি না আমাদের অজান্তে ডেকে আনছে ভয়ংকর সব রোগবালাই! সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের লেনদেনে ব্যবহৃত টাকার নোটে কখনো কখনো একটি ব্যবহৃত টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর জীবাণু লুকিয়ে থাকে ।
ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাস জানিয়েছেন, একটি নোট মূলত মাছের বাজার থেকে শুরু করে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টার—সব জায়গায় ঘোরে । কাগজের নোটের সূক্ষ্ম তন্তুতে ঘাম, আর্দ্রতা ও ধুলাবালি আটকে থাকায় এটি ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য এক নিরাপদ বাসা হয়ে ওঠে । নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সাধারণ নোটে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে ! এর মধ্যে রয়েছে ই-কোলাই, স্ট্যাফাইলোকক্কাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ক্ষতিকর সব জীবাণু, যা ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ফুসফুস, ত্বক এবং সর্দি-কাশির মতো নানা রোগের জন্য দায়ী।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমাদের দেশে একটি খুব সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস রয়েছে— আঙুলে থুতু বা লালা লাগিয়ে টাকা গোনা । চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই অভ্যাসের কারণে টাকা থেকে সরাসরি জীবাণু আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্যের শরীরেও খুব সহজে সংক্রমণ ছড়াতে পারে ।
তবে এই বিপদ থেকে মুক্তির উপায়ও খুব সহজ। টাকা ধরার পর এবং কোনো কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে । পাশাপাশি শিশুদের টাকার নোট মুখে দেওয়া থেকে বিরত রাখা এবং কাগজের টাকার বদলে ডিজিটাল লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । একটুখানি সচেতনতাই পারে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে টাকার গায়ে লুকিয়ে থাকা এই অদৃশ্য বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে !


