
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাধারণত পাঠ্যবইকেন্দ্রিক শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বৈশ্বিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক সংকট বা টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি জানার সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়। এই বাস্তবতা থেকে তরুণদের সামনে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এসেছে জিরো অলিম্পিয়াড। যার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক ইস্যু সম্পর্কে সচেতন করা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা।
এই প্রতিযোগিতার ধারণা মূলত জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) থেকে নেওয়া। ২০১৫ সালে ঘোষিত এই ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়া, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
জিরো অলিম্পিয়াডের বিশেষত্ব হলো এসডিজিগুলোর প্রতিটিকে “শূন্য” ধারণার মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। যেমন: শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য ক্ষুধা কিংবা শূন্য বৈষম্য। অর্থাৎ বিশ্ব থেকে এসব সমস্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চিন্তাকেই এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে।
স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারে। প্রতিযোগিতাটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে অনলাইন বহুনির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। এরপর নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নির্দিষ্ট এসডিজি-ভিত্তিক বিষয়ে ভিডিও উপস্থাপনা তৈরি করতে হয়। সবশেষে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যান্ড ফিনালে, যেখানে তারা তাদের ধারণা ও সমাধান উপস্থাপন করে।
আয়োজকদের মতে, জিরো অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি তরুণদের বৈশ্বিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়।
“শূন্যে নামাই সমস্যা, নায়ক হয়ে উঠি আমরা” (Reducing to Zero, Rising as Hero)— এই স্লোগানকে সামনে রেখে জিরো অলিম্পিয়াড নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রতিযোগিতার নয়, বরং দায়িত্বশীল বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে।


