একসময় ধারণা করা হতো, হার্ট ফেইলিওর বা হৃদ্যন্ত্রের ব্যর্থতা কেবল বয়স্কদেরই সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, এই জটিল অবস্থা যে কোনো বয়সেই হতে পারে— এমনকি ঘুমের মধ্যেও। এটি এমন একটি রোগ, যার লক্ষণ ও প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত করা ও প্রতিরোধের জন্য সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুমন্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, হার্ট ফেইলিওর আসলে একটি “স্পেকট্রাম ডিজিজ” বা বিস্তৃত রোগের ধরন। অর্থাৎ, এটি কারও ক্ষেত্রে হালকা উপসর্গ দিয়ে শুরু হলেও অন্য কারও জন্য তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
হার্ট ফেইলিওর কী?
হার্টের প্রধান কাজ হলো শরীরের প্রতিটি অঙ্গে রক্ত পাম্প করে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করা। যখন হার্ট যথাযথভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না বা শরীরের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, তখনই তাকে হার্ট ফেইলিওর বলা হয়।
হার্ট যদি পেছনের চাপ সামলাতে না পারে, তবে রক্ত ফুসফুসে জমে যায়, ফলে শ্বাসকষ্ট, হাত-পা ফুলে যাওয়া, পেটব্যথা বা ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। আর যদি সামনের চাপ বেড়ে যায়, তবে শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না— এতে মাথা ঝিমঝিম করা, কিডনির সমস্যা বা অবশভাব হতে পারে।
হার্ট ফেইলিওরের ধরন
Reduced Ejection Fraction (HFrEF): হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায়।
Preserved Ejection Fraction (HFpEF): হার্ট স্বাভাবিকভাবে পাম্প করতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।
পুরুষ না নারী— কে বেশি ঝুঁকিতে?
বিশ্বজুড়ে পুরুষদের মধ্যে হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য— উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, ধূমপান ও মদ্যপান। এসব কারণে হার্ট অ্যাটাক হলে হার্টের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে রক্ত পাম্পিংয়ের ক্ষমতা কমে যায়।
অন্যদিকে, নারীদের মধ্যে ‘Preserved Ejection Fraction’ ধরনের হার্ট ফেইলিওর বেশি দেখা যায়, যা সাধারণত ৬০ বছরের পর বয়সজনিত কারণে হয়।
প্রতিরোধ ও যত্নের উপায়
ডা. সুমন্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট অ্যাটাক— উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে জীবন রক্ষা সম্ভব।
হার্ট সুস্থ রাখতে করণীয়:
নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন ও পুষ্টিকর খাবার খান।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা ফোলাভাব দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হার্ট ফেইলিওর শুধুমাত্র বৃদ্ধদের নয়— এটি যে কারও হতে পারে। তাই বয়স নয়, বরং সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারাই হতে পারে হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি।


