গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাসের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়ার খবরকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনটি। রোববার এক বিবৃতিতে হামাস স্পষ্ট জানায়, সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি করা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর প্রচার। বিশেষ করে স্কাই নিউজ আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
ওই প্রতিবেদনে একজন নাম না-জানা ফিলিস্তিনি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, হামাস নাকি যুদ্ধবিরতির জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে—প্রথমত, বিদেশে থাকা হামাস নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, দ্বিতীয়ত, সংগঠনটির বিদেশি সম্পদের সুরক্ষা, এবং তৃতীয়ত, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় হামাসের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা। তবে হামাস জোরালোভাবে এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে জানায়, “এসব তথ্য আমাদের স্পষ্ট, প্রকাশ্য ও নীতিগত অবস্থানের পরিপন্থী। হামাস কখনোই কোনো গোপন সূত্র বা ফাঁস হওয়া তথ্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে না।”
হামাস আরও দাবি করে, এ ধরনের সংবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার কৌশল এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনকে কলুষিত করার অপচেষ্টা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার তার ট্রুথ সোশাল অ্যাকাউন্টে গাজায় একটি চুক্তির আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “গাজায় চুক্তি করো। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনো।” এর আগেও তিনি অনুমান করেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজার ৪১২ জন, যাদের মধ্যে ১৮ হাজার শিশু ও ১২ হাজার ৪০০ জন নারী রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো।
তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ, স্কাই নিউজ আরাবিয়া



