শীতকালে পা ফাটার বিষয়টি আমাদের কাছে অনেকটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন গ্রীষ্মকালেও একই সমস্যা দেখা দেয়, তখন তা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ গরমে সাধারণত বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, ফলে ত্বক শুষ্ক হওয়ার কথা নয়। তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেকেই এই সময়েও গোড়ালি ফাটার সমস্যায় ভোগেন, যা শুধু সৌন্দর্যহানিকরই নয় বরং ব্যথা, অস্বস্তি এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
গরমে পা ফাটার পেছনে সম্ভাব্য কারণসমূহ
গ্রীষ্মকালীন পা ফাটা শুধুমাত্র বাহ্যিক পরিচর্যার অভাবে নয়, বরং শরীরের ভেতরের পুষ্টিহীনতা, হরমোনগত অসামঞ্জস্য বা সুপ্ত রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।
১. পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন): গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর প্রচুর পানি হারায়। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং পা ফাটে।
২. ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি: বিশেষ করে ভিটামিন A, E এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব ত্বকের নমনীয়তা কমিয়ে দেয়, ফলে গোড়ালি ফাটে।
৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যার কারণে ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে যায় ও ফাটে।
৪. খালি পায়ে হাঁটা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা: গরমে খোলা পায়ে হাঁটার ফলে রোদ ও ধুলাবালুর সংস্পর্শে পায়ের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পা ফাটার অন্যতম কারণ।
৫. অ্যালার্জি বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন: অতিরিক্ত ঘামে ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে, যা ত্বকে সংক্রমণ ঘটিয়ে পা ফাটাতে পারে।
সমাধান ও প্রতিকার
দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন, যাতে শরীর ও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন।
নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখুন এবং সপ্তাহে এক-দুবার হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন।
খাদ্যতালিকায় ভিটামিন A, E এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, মাছ, সবুজ শাকসবজি রাখুন।
রোদ বা ধুলাবালি থেকে রক্ষায় সানস্ক্রিন লাগিয়ে মোজা বা হালকা জুতা পরিধান করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি কখন?
পা ফাটার গভীরতা যদি অনেক বেশি হয়
রক্তপাত বা ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দিলে
কোনো ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহারে দীর্ঘদিনেও উন্নতি না হলে
গরমকালেও পা ফাটার বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার অশনিসংকেত। তাই যত্ন নিন, সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।



