২০২৬ বিশ্বকাপ এখন নকআউট পর্বে প্রবেশ করেছে। ৪৮ দল থেকে শুরু হওয়া এই আসর এখন ৩২ দলে এসে ঠেকেছে। পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতার সমীকরণও অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপটা অ্যানালিস্টের’ সুপারকম্পিউটার রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, যা বাস্তবেও ঘটেছে। এবার তারা জানিয়েছে ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কোন দুটি দলের।
সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শেষ বত্রিশ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের—৮১.৫ শতাংশ। কিলিয়ান এমবাপ্পের দল কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪২.৭ শতাংশ এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ। আর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১৮.৭ শতাংশ, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে ফ্রান্স শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকলেও নকআউটের বিভিন্ন ধাপে পার হওয়ার ক্ষেত্রে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বেশি এগিয়ে। কেপ ভার্দেকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ। কোয়ার্টার ফাইনালে (৭০.৫%), সেমিফাইনালে (৪৯.৬%) এবং ফাইনালে (৩০%) ওঠার সম্ভাবনার দিক থেকেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সবার ওপরে। অর্থাৎ সুপারকম্পিউটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের চেয়েও এগিয়ে, তবে ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে ফরাসিরা।
তালিকার তৃতীয় স্থানে স্পেন (শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫%)। ইংল্যান্ড ৯.৭ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ, আর ব্রাজিলের সম্ভাবনা ৬.৫ শতাংশ। নেদারল্যান্ডস (৫.১%), পর্তুগাল (৪.৭%), জার্মানি (৪.৪%), কলম্বিয়া (৩.২%), নরওয়ে (৩%), যুক্তরাষ্ট্র (২.৫%), সুইজারল্যান্ড (২.২%) এবং মেক্সিকো (১.৮%)—এরা সবাই এখনো লড়াইয়ে টিকে আছে। গত আসরের চমক মরক্কো ও বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান ১.৬ শতাংশ, আর জাপানের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।
তবে মনে রাখতে হবে, অপটার এই পূর্বাভাস কেবল গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব। ফুটবল মাঠের ৯০ মিনিটে অনেক কিছুই সম্ভব।



