অনেকেই জানেন না, পেঁয়াজ একটি সবজি—যা শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ ও ঝাঁজ বাড়াতেই নয়, বরং শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। যারা পেঁয়াজ খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সুখবর হলো—নিয়মিত পেঁয়াজ খাওয়ার ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে বেশকিছু ইতিবাচক পরিবর্তন। ইটিংওয়েল-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পেঁয়াজ খাওয়ার নানা উপকারিতা।
প্রথমত, হজমে সহায়তা করে পেঁয়াজ। এতে থাকা ‘ইনুলিন’ নামক প্রিবায়োটিক উপাদান উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, এটি হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেঁয়াজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ‘কোয়ারসেটিন’ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, যা প্রদাহ কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, চোখের যত্নে পেঁয়াজের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা সালফার উপাদান ‘গ্লুটাথায়ন’ উৎপাদনে সহায়তা করে, যা চোখের জন্য একটি অপরিহার্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমা এবং ক্যাটার্যাক্টের ঝুঁকি হ্রাসে সাহায্য করতে পারে।
চতুর্থত, পেঁয়াজের ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এতে থাকা সালফার যৌগ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুস, পাকস্থলী, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
পঞ্চমত, এটি জীবাণুনাশক গুণেও সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজের নির্যাস ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যেমন স্ট্যাফিলোকক্কাস ও সালমোনেলা দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেমন:
কিছু মানুষের হজমের সমস্যা হয়। বিশেষত যারা আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome)-এ ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে পেঁয়াজে থাকা ফ্রুকটান পেট ফাঁপা, গ্যাস ও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকতে পারে। কারও কারও শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা গুরুতর শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস হতে পারে। সালফার যৌগের কারণে পেঁয়াজ খাওয়ার পর দীর্ঘসময় মুখে দুর্গন্ধ থাকতে পারে।
যদি কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া অনুচিত হয়, তবে কিছু বিকল্প উপায়ে পেঁয়াজ খাওয়া যেতে পারে—
ক্যারামেলাইজড পেঁয়াজ: ধীরে ধীরে রান্না করলে পেঁয়াজে মিষ্টি স্বাদ ও সমৃদ্ধ ঘ্রাণ তৈরি হয়, যা বার্গার, পিজ্জা বা স্টেকের সঙ্গে ভালো লাগে।
রোস্ট করা পেঁয়াজ: ৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ২৫–৩০ মিনিট বেক করলে পেঁয়াজের প্রাকৃতিক মিষ্টতা বেড়ে যায়।
গ্রিল করা পেঁয়াজ: অল্প অলিভ অয়েল ও লবণ মাখিয়ে গ্রিল করলে মনোমুগ্ধকর স্মোকি স্বাদ পাওয়া যায়, যা সালাদ বা গ্রিলড মিটের সঙ্গে চমৎকার সঙ্গী।
কাঁচা খাওয়া লাল পেঁয়াজ: সালাদ, স্যান্ডউইচ বা সসে লাল পেঁয়াজ অপরিহার্য। ঝাঁজ কমাতে চাইলে এটি ১০–১৫ মিনিট ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং বলা যায়, পেঁয়াজ শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, বরং এটি শরীরের জন্যও দারুণ উপকারী। প্রতিদিনের খাবারে পেঁয়াজ রাখলে হজমশক্তি বাড়ে, হৃদয় ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হয়। তবে যাদের অ্যালার্জি বা হজমে সমস্যা আছে, তাদের পেঁয়াজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।


