ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির ‘সুপারফুড’। সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি সব বয়সীর প্রিয় হলেও, এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ডিম খাওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করে শরীরের পুষ্টি শোষণের হার ভিন্ন হতে পারে। সম্প্রতি পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা ডিম খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন।
সকালের নাশতায় ডিম কেন সেরা? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম খাওয়ার জন্য সকালের নাশতা বা ব্রেকফাস্টই সবচেয়ে আদর্শ সময়। এর পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে। প্রথমত, ডিমের উচ্চমানের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। দ্বিতীয়ত, সকালে ডিম খেলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি পায় এবং এতে থাকা ভিটামিন বি-১২ সারাদিনের কাজের শক্তি জোগায়। এছাড়া ঘুমের সময় পেশির যে ক্ষয় হয়, সকালের প্রোটিন তা দ্রুত মেরামত করতে সাহায্য করে।
দুপুর বা রাতে ডিম খাওয়া কি ক্ষতিকর? বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডিম খাওয়ার প্রচলন থাকলেও পুষ্টিবিদরা কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ভাতের মতো ভারী কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ডিম খেলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হতে পারে এবং পুষ্টি শোষণের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ ডিমের প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, যা অনেকের ক্ষেত্রে এসিডিটি বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দিনে অন্তত একটি ডিম খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং সুস্থ থাকার জন্য সকালের নাশতায় ডিম রাখাকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপনি যদি সুস্থ থাকেন, তবে দুপুরের খাবারে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম রাখলে কোনো ক্ষতি নেই, তবে হজমের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।



