কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার হোটেল সি প্যালেসে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন আর্থিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ জন চীনা এবং ১ জন তাইওয়ানিজ নাগরিককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং রামু থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃত বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ১,৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোন, অন্তত ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি ল্যাপটপ এবং বেশ কিছু স্পর্শকাতর যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই চক্রটি টেকনাফ ও উখিয়ার ইনানী ও হিমছড়ি এলাকার একাধিক রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছিল। হিমছড়ির একটি রিসোর্টে তারা কম্পিউটার ল্যাব ও সাউন্ডপ্রুফ রুম তৈরি করে ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, ফেক মার্কেট অ্যানালাইসিস এবং ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিশাল অংকের আর্থিক জালিয়াতি পরিচালনা করে আসছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর কোনো বৈধ ব্যবসায়িক নথি বা অবস্থানের সঠিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তাইওয়ানিজ নাগরিক ওয়েই চিং ওয়েন এবং চীনা নাগরিক শু ইয়াংফান, ইয়ান চংশেনসহ মোট ৬ জনকে কক্সবাজার আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রামু থানায় দায়ের করা সাইবার অপরাধ মামলার এজাহারে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা বিদেশি নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যারা এই প্রতারণা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জব্দ করা ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্কটি উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।



