সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা পরোটা-ভাজি দিয়ে দিন শুরু করা আমাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে খাবারের ধরণও। এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের তালিকায় দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে ওটস। একসময় এটি কেবল বিদেশিদের খাবার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে শহরের সুপারশপ থেকে শুরু করে গ্রামের মুদি দোকানেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ওটসকে বলা হয় সুপারফুড, কারণ এতে এমন সব পুষ্টিগুণ রয়েছে যা শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
ভাবুন তো, সকালের নাশতায় এক বাটি দুধ ও ফল মিশিয়ে ওটস খেয়ে নিলেন— সারাদিন শরীর পেল বাড়তি শক্তি, ক্ষুধাও লাগল না ঘন ঘন। দারুণ না? তাই যারা ডায়েট মেনে চলেন, ওজন কমাতে চান বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে চান, তাদের জন্য ওটস হতে পারে নির্ভরতার নাম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ওটস রাখলে শরীরে এমন সব উপকার ঘটে, যা অনেকেই কল্পনাও করতে পারেন না। যেমন—
ভালো ঘুমের জন্য: ওটসে থাকা মেলাটোনিন ও জটিল কার্বোহাইড্রেট ট্রিপটোফ্যান উৎপাদন বাড়ায়, যা মস্তিষ্কে পৌঁছে ঘুমের মান উন্নত করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: ইনসুলিন সংবেদনশীলতা হ্রাসের কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এ ক্ষেত্রে ওটস কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য সমাধান: এতে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ: ওটসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, অথচ ভালো কোলেস্টেরলের কোনো ক্ষতি করে না।
ত্বকের জন্য উপকারী: ওটস শুষ্ক, রুক্ষ ও চুলকানিযুক্ত ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করে। এ কারণে অনেক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টেই ওটমিল ব্যবহৃত হয়।



