হঠাৎ দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা গুরুতর অসুস্থতার মতো সংকটে মিনিটও হয়ে ওঠে জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান। বিশেষ করে যখন রোগী দূরবর্তী অঞ্চলে থাকেন বা দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন সড়কপথে অপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঠিক এ সময়েই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামসজ্জিত এই বিশেষ উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারে থাকে ভেন্টিলেটর, ডিফিব্রিলেটর, মনিটর, জরুরি ওষুধসহ পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেটআপ, এবং রোগীর সঙ্গে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্যারামেডিক দল, যারা পুরো যাত্রায় রোগীর অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সাধারণত দুই ধরনের—ফিক্সড-উইং ফ্লাইট অ্যাম্বুলেন্স, যা জেট বা টার্বোপ্রপ বিমানের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্ব ও আন্তর্জাতিক রুটে রোগী পরিবহন করে; এবং রোটারি-ফ্লাইট বা হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স, যা স্বল্প দূরত্বে দ্রুত উড্ডয়ন ও অবতরণের সুবিধায় দুর্গম এলাকা বা শহরের অভ্যন্তরে জরুরি ‘বেড-টু-বেড’ ট্রান্সফারে ব্যবহৃত হয়। প্রিমিয়াম সেবা হওয়ায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি—বাংলাদেশে হেলিকপ্টার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া অঞ্চলভেদে ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, আর আন্তর্জাতিক রুটে ব্যয় আরও অনেক বেশি। খরচ নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে দূরত্ব, বিমানের প্রকারভেদ, রোগীর চিকিৎসাগত প্রয়োজন (যেমন ভেন্টিলেটর বা ইসিএমও-সাপোর্ট), ল্যান্ডিং চার্জ ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়। এসব বিষয় বিবেচনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।



