ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার শিরোপা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই তাড়া করে ফিরছিল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি)। সেই লক্ষ্যেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসি ও নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের দলে ভিড়িয়েছিল ফরাসি ক্লাবটি। তবে এত আয়োজনের পরও তাদের অধরা থেকেই গিয়েছিল ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন।
অদ্ভুতভাবে, মেসি–এমবাপ্পে–নেইমারদের মতো তারকারা ক্লাব ছাড়ার পরই ভাগ্য বদলায় পিএসজির। ২০২৪–২৫ মৌসুমে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ঘরে তোলে ফরাসি জায়ান্টরা।
শুধু গৌরব নয়, এই এক ট্রফিতেই পিএসজির ঘরে এসেছে বিশাল অঙ্কের অর্থ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে উয়েফার বার্ষিক সম্মেলনের আগে প্রকাশিত ২০২৪–২৫ মৌসুমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে প্রাইজমানি বাবদ পিএসজি পেয়েছে ১৪ কোটি ৪৪ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬২ কোটি টাকা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রানার্সআপ হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করেছে ইন্টার মিলান। তারা পেয়েছে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। নতুন ফরম্যাটে আয়োজিত এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেয় ৩৬টি দল, যেখানে প্রাইজমানির পরিমাণও বাড়ায় উয়েফা। পুরো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে মোট ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার বণ্টন করা হয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সাতটি দলই পেয়েছে কমপক্ষে ১০ কোটি ইউরো করে। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকায় একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল অ্যাস্টন ভিলা, যারা পেয়েছে ৮ কোটি ৩৭ লাখ ইউরো। সব মিলিয়ে নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যে ক্লাবগুলোর জন্য আর্থিক দিক থেকেও কতটা লাভজনক, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।



