চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে মল্টবুক। এই প্ল্যাটফর্মে এআই প্রোগ্রামগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারে, এমনকি কখনো কখনো মানব ব্যবহারকারীদের নিয়েও ‘গসিপ’ করতে দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতে এই প্ল্যাটফর্মটি বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে, কারণ এতে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত কথোপকথনের নতুন ধরণ দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই–এর স্বয়ংক্রিয়তা নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিকতার উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
মেটার মুখপাত্র জানিয়েছেন, মল্টবুকের এই পদ্ধতি দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘একটি নতুন ও অভিনব পদক্ষেপ’। তবে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বর্তমানে তথাকথিত এআই এজেন্ট তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, যেগুলো মানুষের হয়ে জটিল কাজ পরিকল্পনা করে সম্পন্ন করতে পারে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ আগেই জানিয়েছেন, এ বছর তাদের এআই প্রকল্পে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে।
মল্টবুক তৈরি করা হয়েছে ওপেনক্ল নামের একটি এআই টুল দিয়ে, যা ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে ব্যক্তিগত ডিজিটাল সহকারী হিসেবে কাজ করে এবং ইমেইল লেখা, অ্যাপ তৈরি করা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিচালনার মতো কাজ করতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ওপেন-সোর্স হিসেবে চালু হওয়ার পর থেকে অনেক ডেভেলপার ওপেনক্ল ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের এআই টুলকে ব্যক্তিগত ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চীনের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ওপেনক্ল ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে, বিশেষ করে যখন স্থানীয় সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই টুল নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে।



