আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে ধনবাড়ী উপজেলার খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণ ও বিশুদ্ধ মাংস উৎপাদনে। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারের ভিত্তিতে খামারগুলোতে দেশি গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, জার্সি, ফিজিয়ান ও ব্রাহামা জাতের গরুও লালনপালন করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহারের পাশাপাশি এখন বাজার থেকে কেনা উন্নত মানের গো-খাদ্য ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণে মনোযোগী হচ্ছেন খামারিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধনবাড়ীর প্রায় প্রতিটি গ্রামেই গড়ে উঠেছে ছোট-বড় খামার, যেখানে ঈদকে কেন্দ্র করে চলছে অতিরিক্ত যত্ন ও পরিচর্যা। তবে গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এবং চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি থাকায় অনেক খামারি গরুর বাজারমূল্য নিয়ে শঙ্কিত। তারা ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
গ্রিন খামার (মুশুদ্দি)-এর খামারি কামাল জানান, প্রতি বছর তারা ৫০-৬০টি গরু পালন করলেও এবার বাছুর ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। মুশুদ্দি গ্রামের আরেক খামারি আবু তালেব জানান, উন্নত জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ষাঁড় পালন করছেন এবং লাভের আশা করছেন। বলিবদ্র গ্রামের খামারি করিম বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে গরু বড় করছেন এবং প্রায় ৩ একর জমিতে উন্নত জাতের কাঁচা ঘাস চাষ করেছেন, তবে গো-খাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে চিন্তিত তিনি। ভারতীয় গরু এলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তিনি।
ধনবাড়ী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. বিপ্লব কুমার পাল জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত খামার পরিদর্শন, ভ্যাকসিন প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামসহ নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খামারিদের হরমোন বা স্টেরয়েড জাতীয় ক্ষতিকর খাবার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ধনবাড়ী উপজেলায় গরু, মহিষ, বলদ ও গাভি মিলিয়ে প্রায় ৩৬ হাজার ৬৬টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও অতিরিক্ত থাকবে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১১ হাজার খামারে চলছে মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম।



