গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে আরও এক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের জীবন নিভে গেল। ফিলিস্তিনের পেশাদার ফুটবলার মুহান্নাদ আল-লেলে বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। সেন্ট্রাল গাজার আল-মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে নিজ বাসায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে যান এই সাবেক ক্লাব অধিনায়ক।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, গত সোমবার মুহান্নাদের তিনতলা বাসায় সরাসরি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং টানা রক্তক্ষরণে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান তিনি।
মুহান্নাদ তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন খাদামাত আল-মাঘাজি ক্লাব থেকে, এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ক্লাবটির অধিনায়কত্ব করেন। এরপর খেলেছেন শাবাব জাবালিয়া ক্লাবে, যেখানে ২০১৮-১৯ মৌসুমে দলকে লিগের দ্বিতীয় স্থানে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার। পরে যোগ দেন গাজা স্পোর্টস ক্লাবে, তবে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরে আবার নিজের প্রথম ক্লাবে ফিরে আসেন।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে ৫৮৫ জন ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২৬৫ জনই ফুটবলার। শুধু মানবিক ক্ষতিই নয়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফিলিস্তিনের ক্রীড়া পরিকাঠামোও। এখন পর্যন্ত ২৬৪টি ক্রীড়া স্থাপনা ইসরায়েলি হামলায় আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৪টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ফিফার অর্থায়নে নির্মিত ১২টি স্টেডিয়ামও ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার ইয়ারমুক ও ফিলিস্তিন স্টেডিয়াম বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে।
মুহান্নাদ আল-লেলের মতো অসংখ্য প্রতিভাবান ফুটবলার হারিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতায়। মাঠে গোলের উল্লাস নেই, নেই বিজয়ের আনন্দ—আছে কেবল ধ্বংস, কান্না আর হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রগুলো পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। খেলাধুলা নয়, সেখানে এখন বাজছে শুধু বেঁচে থাকার লড়াইয়ের করুণ সুর।



