নেদারল্যান্ডসের হ্যাগ শহরে অনুষ্ঠিত এবারের ন্যাটো সম্মেলনকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সম্মেলন বলা হচ্ছে। মাত্র ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১৪৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মিনিটে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতো বিপুল ব্যয় নিয়ে ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক।
বুধবার (২৫ জুন) ব্রিটেনের দ্য টাইমস এবং নেদারল্যান্ডস টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলন উপলক্ষে হ্যাগ শহরজুড়ে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় প্রায় ২৭ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ১০ হাজার সামরিক বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি, লজিস্টিকস, পরিবহন, প্রযুক্তি এবং অতিথি আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ।
প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল: ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সামরিক হুমকি এবং ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা। তবে, প্রশ্ন উঠছে—মাত্র ১৫০ মিনিটের এক সম্মেলনের জন্য এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা কোথায়?
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে লিখেছেন, “মাত্র আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়, অথচ আমরা জানি না এর ফল কী!” ডাচ পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্যও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই অর্থ কি স্বাস্থ্য বা শিক্ষাখাতে ব্যয় করা যেত না?
এদিকে, আয়োজক ও ন্যাটো কর্তৃপক্ষ ব্যয়কে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষায়, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন ছিল সময়োপযোগী। এটি ছিল একটি প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগ, যা কোনো অপচয় নয়। ন্যাটোর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের মুখে এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। এই সম্মেলন ছিল সেই উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



