মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই জরুরি। ব্যস্ত জীবনের চাপে আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না আমাদের ভেতরে কী পরিবর্তন হচ্ছে। অথচ মানসিক সমস্যার প্রাথমিক সতর্ক সংকেতগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণে সামান্য পরিবর্তনও মানসিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তাই নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম সংকেত হলো ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন। হঠাৎ ঘুম না আসা, মাঝরাতে জেগে ওঠা বা অতিরিক্ত ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগা—এসবই মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। খারাপ ঘুম শুধু ক্লান্তিই আনে না, এটি মেজাজ, মনোযোগ ও সারাদিনের মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে।
দ্বিতীয় সতর্কতা হলো আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। আগে যেসব কাজ বা শখে আনন্দ পেতেন, সেগুলো আর ভালো না লাগলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এই অবস্থাকে অ্যানহেডোনিয়া বলা হয়, যা স্ট্রেস, উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন-এর সম্ভাব্য লক্ষণ।
তৃতীয় সংকেত খিটখিটে মেজাজ ও মুডের ওঠানামা। সামান্য কারণে রাগ হওয়া, মন খারাপ হয়ে যাওয়া বা অকারণে কান্না পেতে থাকা—এসবই মানসিক চাপে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় নিজের অনুভূতি বুঝতে বিরতি নেওয়া এবং কারও সঙ্গে কথা বলা খুব কার্যকর।
চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা। কাজে বসে মন অন্যদিকে চলে যাওয়া, পড়া মনে না থাকা বা সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হওয়া—এসবই মানসিক ক্লান্তি বা চাপের পরিচায়ক। এসব পরিবর্তন টের পেলে নিজের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পঞ্চম সংকেত হলো শারীরিক লক্ষণ। মানসিক সমস্যার প্রভাব শরীরেও দেখা যায়—অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেশিতে টান, পেটের অস্বস্তি কিংবা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন—এসবই উদ্বেগ বা স্ট্রেসের ফল হতে পারে। মন ও শরীর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত, তাই শরীরের এসব সতর্কবার্তা অবহেলা করা উচিত নয়।
মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে তা নিজের জীবনে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই কোনো লক্ষণ নিজের সাথে মিলে গেলে একটু বিরতি নিন, কাছের কারও সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নিন। নিজের মানসিক সুস্থতার প্রতি যত্নশীল হওয়াই নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ।



