২০২২ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি শুরু থেকেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করে গুগলের মতো টেক জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামাই ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবার অনুবাদ সেবায় বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল সংস্থাটি। সম্প্রতি ‘চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট’ নিয়ে দেওয়া এক ঘোষণায় ওপেনএআই জানায়, ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার দিকেই তাদের নজর।
ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই ট্রান্সলেশন টুলের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষার মধ্যে আরও নিখুঁত ও স্বাভাবিক অনুবাদ সম্ভব হবে। যদিও চ্যাটজিপিটিতে আগে থেকেই অনুবাদ সুবিধা ছিল, তবে নতুন টুলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় আসবে বড় পরিবর্তন। সংস্থার দাবি, চ্যাটজিপিটি ইতোমধ্যেই ৪০টিরও বেশি ভাষায় সঠিক ভাব, প্রসঙ্গ এবং সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা বজায় রেখে অনুবাদ করতে সক্ষম। ‘চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট’ মূলত এই সক্ষমতাকেই আলাদা করে তুলে ধরবে এবং ভবিষ্যতে একে আরও উন্নত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে কার্যত গুগল ট্রান্সলেটকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল ওপেনএআই। যদিও গুগল ট্রান্সলেট বর্তমানে ২৪৯টি ভাষায় কাজ করে, সেখানে চ্যাটজিপিটি এখনো পর্যন্ত স্বচ্ছন্দভাবে প্রায় ৪৭টি ভাষায় অনুবাদে পারদর্শী। তবু ওপেনএআইয়ের নতুন পদক্ষেপ প্রমাণ করছে, অনুবাদ সেবায় গুগলের একচ্ছত্র আধিপত্য আর অটুট নেই।
এর আগেও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। গত নভেম্বরে তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ওপেনএআই শক্তিশালী মডেল তৈরির মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং সুপার ইন্টেলিজেন্সে পৌঁছাতে গবেষণা দলের আরও বেশি মনোনিবেশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই দৌড়ে আপাতত গুগল এগিয়ে থাকলেও তা সাময়িক। সাম্প্রতিক ঘোষণায় সেই আত্মবিশ্বাসই আবারও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট নিয়ে ওপেনএআইয়ের নতুন ঘোষণা সেই প্রতিযোগিতায় আরও এক ধাপ উত্তেজনা যোগ করল বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।



