প্রযুক্তিনির্ভর সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম এআই ডেটিং ক্যাফে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এ উদ্যোগ চালু করে এআই সম্পর্কভিত্তিক অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান EVA AI, যার নাম দেওয়া হয় “EVA Café”।
এই পপ-আপ ক্যাফেতে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব ডেটিং পরিবেশে বসে নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটান। প্রতিটি টেবিলে একজন অতিথির সামনে একটি ফোন স্ট্যান্ড রাখা ছিল, যেখানে এআই সঙ্গীর বাস্তবসম্মত অবতার দেখা যাচ্ছিল। ব্যবহারকারীরা হেডফোন দিয়ে লাইভ ভয়েস ও ভিডিও চ্যাটে ব্যক্তিগত আলাপ করেন, খাবার অর্ডার করেন এবং ডেটের অনুভূতি উপভোগ করেন। ঠিক যেন বাস্তব কোনো সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করছেন।
আয়োজকদের দাবি, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ইতোমধ্যেই এআই সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা, আবেগ ভাগাভাগি করা কিংবা রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরির অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। তবে এতদিন সেই সম্পর্ক শুধুই স্ক্রিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাস্তব পরিবেশে ডেটের অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ক্যাফের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এআই সঙ্গীর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী,
-যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক কখনো না কখনো এআই রোমান্সে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন
১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের ৭২ শতাংশ অন্তত একবার এআই সঙ্গী ব্যবহার করেছে।
-৩০ বছরের নিচে প্রতি তিনজন পুরুষের একজন এবং প্রতি চারজন নারীর একজন এআই পার্টনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটিং অ্যাপের ক্লান্তি, সামাজিক উদ্বেগ এবং একাকীত্ব এই তিনটি কারণ এআই সম্পর্কের জনপ্রিয়তা বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
EVA AI কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মানুষের সম্পর্কের বিকল্প তৈরি করতে চায় না। বরং যারা সম্পর্কের মাঝামাঝি সময়ে আছেন বা মানসিকভাবে সহায়তা চান তাদের জন্য একটি সহায়ক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই লক্ষ্য। ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও শহরে এমন এআই ডেটিং ক্যাফে আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যেভাবে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করছে, তাতে ভবিষ্যতে সম্পর্কের ধারণাও পরিবর্তিত হতে পারে। এআই ডেটিং ক্যাফে সেই পরিবর্তনেরই একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোর্স: CNN, The New York Times and Newsweek


