আর্লিংটন, ভার্জিনিয়া | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা ধারণ করে Prio Bangla আয়োজন করল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (IMLD) ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনের কেনমোর মিডল স্কুলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষায় এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
“Languages Matter: Our Culture, Our Heritage, Our Future” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত উৎসবে অংশ নেন কূটনীতিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি পরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং মানবাধিকারের অন্যতম ভিত্তি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আজ বিশ্বের নানা দেশে ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বহুভাষিক শিক্ষার প্রসারে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কূটনৈতিক ও নীতিগত সংলাপ
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। তারা ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি, বহুভাষিক শিক্ষা এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বহুভাষিকতা শুধু সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি নয়—এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, শিক্ষাগত অগ্রগতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের অন্যতম চাবিকাঠি।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রজন্মের সেতুবন্ধন
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সংগীত, কবিতা, নৃত্য এবং শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা। বাংলা ভাষা ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি অন্যান্য
ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বও ছিল উজ্জ্বল। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও ভবিষ্যতমুখী।
আয়োজক ও অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন প্রিয় বাংলা’র স্বেচ্ছাসেবক, সংগঠক ও উপদেষ্টামণ্ডলী।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে:
Event Partner: Bangla Event
Media Partner: DWNN
Professional Photography and Multimedia Support: Inthekar Siddiqui Arup (Baishakhi Dalas), Ariful Islam, Dew Tron, LLoyd Wolf (CPP) and Dr. Mashiur Rahman Faruque.
Creative Partner: EXomind
OAR and Young Bengali Professional (YBP) for Volunteers Support
তাদের সহযোগিতা ও পেশাদারিত্ব অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একুশের চেতনা
একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়—এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত অধিকার ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার প্রতীক। আজকের পৃথিবীতে, যেখানে বহু ক্ষুদ্র ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ভাষা সংরক্ষণ মানেই মানবতার বৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
এই অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পেরু, শ্রীলঙ্কা, হাইতি, মিয়ানমার, বলিভিয়া, লাতিন আমেরিকা, মিশর, গ্রিস, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, আজারবাইজান, ভারত এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন। বালিনিজ ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের সূক্ষ্ম নকশার পোশাক থেকে শুরু করে প্রাণচঞ্চল মারিয়াচি সঙ্গীত—বিকেলের প্রতিটি মুহূর্তই প্রমাণ করে যে নৃত্য ও সঙ্গীতের সার্বজনীন ভাষা সকল ভাষাগত সীমা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়কে একসূত্রে বেঁধে ফেলে।
প্রিয় বাংলা’র এই আয়োজন প্রমাণ করেছে—ডায়াস্পোরা সম্প্রদায় কেবল ঐতিহ্য লালনই করে না, বরং বৈশ্বিক পরিসরে ন্যায়, অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়।
প্রিয় বাংলা’র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬ ছিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি ছিল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চেতনার সেতুবন্ধন, ভাষার মর্যাদায় অঙ্গীকার, এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
ভাষা বাঁচুক, সংস্কৃতি বাঁচুক, মানবতা বাঁচুক।


