২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ ঘটছে আজ, যা দেখতে মুখিয়ে রয়েছে বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা। বলয়াকার ধরনের এই সূর্যগ্রহণকে অনেকেই ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় নামে চেনে। তবে দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশ থেকে এ মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে এবং রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। গ্রহণের পুরো সময়কাল বাংলাদেশে থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের আকাশে এটি দৃশ্যমান হবে না।
আইএসপিআর জানায়, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশে গ্রহণটি দেখা যাবে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের বাসিন্দারা এ বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট স্পেস ডটকম জানিয়েছে, সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত বলয়াকার সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হতে পারে। এ সময় চাঁদ সূর্যের কেন্দ্রের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে ফেলবে, ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল অগ্নিবলয়ের মতো অংশ দৃশ্যমান থাকবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেয় কিন্তু পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের প্রান্তভাগে উজ্জ্বল বলয়ের মতো দৃশ্য তৈরি হয়—যা ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত।
নাসা জানায়, পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদ নিজ নিজ কক্ষপথে ঘোরার সময় যখন তারা প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে সূর্যগ্রহণ সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে—পূর্ণগ্রাস, আংশিকগ্রাস এবং বলয়াকার সূর্যগ্রহণ।



