বার্সেলোনার তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল বর্তমানে দারুণ ফর্মে আছেন। মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ালেও মাঠের বাইরে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ১৮ বছর বয়সী তরুণ হিসেবেই দেখতে চান। সম্প্রতি ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, মানসিকতা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন স্পেনের এই প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড।
ইয়ামাল জানান, মাঠে নামলে তিনি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে মাঠ ছাড়ার পর ফুটবল থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখেন। তার ভাষায়, তিনি একজন সাধারণ কিশোরের মতোই জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন—বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, ছোট ভাইয়ের যত্ন নেওয়া, প্লে-স্টেশন খেলা কিংবা হাঁটতে বের হওয়া। অতিরিক্ত চাপ ও মিডিয়ার নজরের মধ্যে থেকেও এমন স্বাভাবিক জীবনযাপন তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি।
ফুটবল নিয়ে সারাক্ষণ ভাবতে না চাওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষকে মার্ক করার ভিডিও বা কৌশল নিয়ে সারাদিন ভাবার বদলে তিনি দিনটাকে উপভোগ করতে চান। মাঠে থাকলে নিজের সেরাটা দেন, আর মাঠের বাইরে ফুটবলকে পাশে রেখে স্বাভাবিক থাকতে চান—এটাই তার দর্শন।
স্বাভাবিক জীবনের প্রতি ভালোবাসা বোঝাতে সাক্ষাৎকারে একটি কল্পনাপ্রসূত প্রশ্নের উত্তরে ইয়ামাল বলেন, যদি একদিনের জন্য অদৃশ্য হতে পারতেন, তাহলে সকালে খোলা জায়গায় বসে নাস্তা করতেন, বিকেলে পার্কে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন এবং পরে সাইকেল বা স্কুটার নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। তার কাছে এটাই আদর্শ এক দিনের চিত্র—সাধারণ, নির্ভার ও আনন্দময়।
তারকা জীবনযাপনের মাঝেও শৈশবের স্মৃতিকে ভুলে যাননি ইয়ামাল। তিনি জানান, ছোটবেলায় প্লে-স্টেশন বা নিন্টেন্ডোর মতো জিনিস কেনার সামর্থ্য ছিল না। তখন বন্ধুদের সঙ্গে উঠানে পোকেমন কার্ড নিয়ে খেলেই আনন্দ পেতেন, যেগুলোর দাম ছিল মাত্র এক ইউরো। সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও তাকে বিনয়ী থাকতে শেখায়।
তবে একটি বিষয়ে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি এই তরুণ তারকা—রান্না একেবারেই তার পছন্দ নয়। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, রান্না করার চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু বুঝেছেন সেটা তার কাজ নয়। আলু দিয়ে কিছু নাগেটস বানানোই তার সর্বোচ্চ সাফল্য।
বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব সাফল্যের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের হয়ে বড় কিছু অর্জনের স্বপ্নও দেখছেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপকে এখনও দূরের লক্ষ্য বললেও তিনি মনে করেন, দেশের জন্য সেরাটা দেওয়া এবং শিরোপা জেতা প্রত্যেক স্প্যানিয়ার্ডেরই স্বপ্ন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই এমন পরিণত মানসিকতা ও স্বাভাবিক জীবনদর্শন ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় তারকা হিসেবে গড়ে তুলবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।



